![]() |
| ওয়াটার ভ্যালি |
ওয়াটার ভ্যালিতে বিস্ময়-01 (Science Fiction)
এস আহমেদ
এস আহমেদ
দখিনা বাতাসের উত্তাল প্রবাহ আর ঋতুর শ্লথ পরিবর্তন এখানকার প্রধান আকর্ষন । বাতাসের প্রধান কারন হলো উত্তর – দক্ষিন দু-দিকে মাইলের পর মাইল বিস্তৃত বিল । বর্ষায় ডুবে টুইটুম্বুর, আর গ্রীষ্মে সবুজের সমারোহ, মনভোলানো পাখিদের গান, বসন্তের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য ছাড়াও রাতের হিজলবনে পেঁচার ডাক, চাঁদনী রাতে বাদুরের ঝাপটানি ওয়াটার ভ্যালিকে বিশেষায়িত করেছে । এ সৌন্দর্য উপভোগ্য ও আত্মার খোরাক । হাজার বছর পুরোনো এ ভ্যালিতে রয়েছে প্রকৃতির অজস্র বিস্ময় । কখনো কথা বলা উড়াল সাপ, কখনো রোবটিক এগ, আবার কখনো দেখা যায় নাম না জানা বিচিত্র সব প্রাণী । তাইতো জিসানের মনে ঝেঁকে বসেছে ওয়াটার ভ্যালি । সে চিন্তায় নিমগ্ন থাকে সারাক্ষন । প্রকৃতির এসব বিস্ময় উদঘাটন করার নেশা সর্বদা তাকে মাতিয়ে রাখে । জিসান ইঞ্জিনিয়ারিং এর ২য় সেমিস্টার এর ছাত্র । ওয়টার ভ্যালি ইন্সটিটিউট অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজিতে সে পড়াশুনা করে । তার বাবা মি. আবেদ খাঁনও একজন নামকরা ইঞ্জিনিয়ার । প্রায় এক যুগ ধরে তিনি নাসাতে কাজ করেছিলেন । বর্তমানে তিনি Google এর Asia region এর একজন চীফ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত । তারই একান্ত উদ্যোগে ও দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসায় এবং ওয়াটার ভ্যালির বিস্ময়ে অবিভূত হয়ে
Google ও বাংলাদেশের বিশিষ্ট “ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ‘র উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় ” Water Valley Institute Of Science And Technology ” । প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দুই বছরের মাথায় ওয়াটার ভ্যালি ইন্সটিটিউট অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজি( WVIST) পুরো পৃথিবীতে সাড়া ফেলে দিয়েছে । যেখানে বিভিন্ন দেশের খ্যাতনামা ইঞ্জিনিয়ার ও বিজ্ঞানীরা শিক্ষকতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন । জিসান ড. আতাউল করিম হল এর ৩য় তলার ৩০৯ নম্বর রুমে থাকে । তার রুমমেটদের একজন হলো মালদ্বীপ এর নাগরিক মু. আবু রায়হান ও আরেক জন কুমিল্লা জেলার তরিকুল ইসলাম । তারা সবাই সহপাঠী হলেও ডিপার্টমেন্ট ভিন্ন । তরিকুল Aestronomy’র ছাত্র । আবু রায়হান Mechanical এর এবং জিসান Electrical and computer Science (ECS)এর । তারা তিনজনই ক্লাস শেষে নিয়মিত লাইব্রেরীতে বসে ল্যাব এ যায় আবার বিভিন্ন
Engineering Fact নিয়ে আলোচনা করে । কিন্তু তার বাইরেও জিসান কাজ করে Water Valley নিয়ে । সবাই ঘুমিয়ে গেলে সে রুফটপে যায় । প্রকৃতিকে পর্যবেক্ষন করে নিবিরভাবে । এইতো সেদিন রাতে পূর্ণ অমাবস্যার চাঁদ ছিল । রাত ১টা ২৫ মিনিট । নীরব ও নিস্তব্ধ চারদিক । জিসান তার ক্যাম্পাসের দক্ষিন দিকটায় লক্ষ করলো এক অদ্ভুত প্রাণী । সংখ্যায় এরা বেশ কয়েকটা । চাঁদের আলোয় এদের শরীরের এক বিশেষ লাইট জিসানের মনোযোগ আকর্ষন করলো । তার সাথে মৃদু শ্রাব্যতার এক অদ্ভুত ডাক । জিসান রীতিমতো ঘাবড়ে গেল । কী নাম হতে পারে এসব আজব প্রাণীর ? রাত শেষ হয়ে গেলে এরা কোথায় যায় ? আরও কতো কি প্রশ্ন তার মনে ঘুরপাক খেতে লাগলো । সেই রাতের পর থেকে জিসানের আগ্রহ আরও বেড়ে দ্বিগুন হয়ে গেল । সে Water Valley Research Center এ নিয়মিত আসা যাওয়া শুরু করতে লাগলো । পরিচিত হলো ফ্রান্সের নাগরিক মি. মিলোয়’র সাথে । ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠলো । জিসান জানতে পারলো মি. মিলোয়া ও প্রায় প্রতি রাতেই ওয়াটার ভ্যালি পর্যবেক্ষন করেন । ১ মাস পর WVIST তে আসছেন আমেরিকার MIT এর Astronomy Department এ বিজ্ঞ প্রফেসর ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী W. Philips. WVIST তে হতে যাচ্ছে এক অনাড়ম্বর কনফারেন্স । যেখানে প্রধান বিষয়ই থাকছে Water Valley ও এর বিষ্ময় । WVIST কর্তৃপক্ষের সিদ্বান্ত অনুযায়ী এ ব্যাপারে কোন মিডিয়াকে ইচ্ছা করেই জানানো হবেনা । জিসান মনে মনে চিন্তা করতে লাগলো যে করেই হোক এই সম্মেলনে তাকে উপস্থিত হতেই হবে । সে চলে গেলো মি. মিলোয়ার কাছে এবং তার আগ্রহের কথা ব্যক্ত করলো । ড. মিলোয়া শর্ত সাপেক্ষে তার আবেদন গ্রহন করলেন । কিন্তু শর্ত অনুযায়ী কিছু কাজ তো জিসানকে করতেই হবে । আগামী সোমবার রাতই নির্ধারিত করা হলো জিসান ও ড. মিলোয়ার যৌথ কার্যক্রমের প্রথম ধাপের জন্য । অতএব একটা প্লান মোতাবেক কাজ শুরু করতে হবে । প্লানগুলোর মধ্যে ক্যামোফ্লাজ পোশাক পরিধান করা, নাইট ভিশন ক্যামেরা, ও একটা ফাস্ট ফুড বক্স । পুরো রাত ও যেগে থাকতে হতে পারে তাই ফাস্ট ফুড না নিলেই নয় । পরিকল্পনা অনুযায়ী রাত ১২ টায় শুরু হবে জিসান ও ড. মিলোয়ার অপারেশন । ক্যামোফ্লেজ পোশাক তাদেরকে যেন প্রায় অদৃশ্য ই করে ফেলেছে । জিসান এক অস্ফুস্ট মৃদু হাসিতে নিজেকে উৎসাহিত করলো তার সাথে অভিবাদন ও জানালো ড. মিলোয়া কে । ততক্ষনে নাইট ভিশন ক্যামেরা রেডি করে জিসানকে তার দায়িত্ব বুঝিয়ে দিল । ব্যস, নিরবে কাটাতে হলো কয়েকটি ঘন্টা । হঠাৎ পশ্চিম দিক থেকে একদল অদ্ভুত প্রাণীর আগমন । নাইট ভিশন ক্যামেরা কোনরকম সিগনাল ছাড়াই নীরবে ধারন করছে সব দৃশ্যাবলী । কিছুক্ষন পর জিসান শিয়রে উঠলো । এ প্রাণীগুলো আগের প্রাণীগুলোর মতো নয় । কিন্তু গঠন প্রনলীতে কিছুটা মিল রয়েছে । ও দিকে ড. মিলোয়া ওই প্রাণীগুলোকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষন করতে চাইলেন নাইট ভিশন লেন্স দিয়ে তৈরী দুরবীক্ষন যন্ত্র দিয়ে । কী আজব খালি চোখে যতটা না স্পষ্ট দূরবীনে একেবারেই অদৃশ্য । কি আর করার একমাত্র আশা ভরসা ঐ নাইট ভিশন ক্যামেরা । চাঁদের আলোয় শুধু দৈহিক গঠনগুলো লক্ষ করা যাচ্ছে । কিন্তু তাদের মুখাবয়ব ও অন্যান্য অঙ্গানু কিছুই দেখা যাচ্ছে না । ওরা দলবদ্ধ যার কারনে শুধু একটিকে ভিডিওতে ধারন করার সুযোগ নেই । জিসানের লক্ষ শুধুমাত্র ওরা কী করছে তা পর্যবেক্ষন করা । ওদিকে ড. মিলোয়া WVIST এর একেবারে পেছনের গেটের ও দিকটাতে, যেখান থেকে কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মীকে দেখা যাচ্ছে । ড. মিলোয়া তাদের ডিস্টার্ব না করে আবার আগের যায়গায় ফিরে এলেন । ও দিকে তিনি জিসানের ওপর কনফিডেন্ট । জিসান ততক্ষনে একটু সামনে অগ্রসর হয়ে WVIST এ তারকাটা দেয়ালের সন্নিকটে চলে গেল । হঠাৎ এক অদ্ভুত শব্দ, এই সেই শব্দ যেটা জিসান আগেও শুনেছিল । তবে কি এরা একই প্রাণী ? প্রশ্ন জাগলো জিসানের মনে । সে নিজেকে জিজ্ঞাসা করলো এরা কি ভিন্ন গোত্রের হতে পারে ? ততক্ষনে রাত ৩ টা বেজে ৩৮ মিনিট । মি. মিলোয়া’র মনে অসস্তি । যদি নাইট ভিশন ক্যামেরাতেও এদের না দেখা যায় তবে কি হবে ? পরদিন সকালে বিশ্রাম সেরে যাচাই করা হলো নাইট ভিশন ক্যামেরাটি । ফলাফল যা হবার তাই হলো । জিসানের কৌতুহলী মুখে হতাশার ছায়া নেমে এলো । নির্ধারিত দিনেই কনফারেন্স হলো । সবকিছু W.
Philips কে শুনানো হলো । তিনি একটা রিপোর্ট তৈরী করলেন । সাথে জিসানকে অভিনন্দন জানালেন তার সাহসী ও কৌতুহলী ভূমিকার জন্য । সিদ্ধান্ত হলো আমেরিকা থেকে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি আনা হবে এবং WVIST এর ক্যাম্পাসে একটি বিশাল পর্যবেক্ষন টাওয়ার স্থাপন করা হবে এভাবেই পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতি চলতে লাগলো , জিসানের আরও একটি সেমিস্টার শেষ হলো । ড. মিলোয়া সেমিস্টার ব্রেকের ছুটিতে প্যারিসে পাড়ি জমালো । আর ও দিকে প্রকৃতির কাজও প্রকৃতি করে চলছিল । এক বিষ্ময়াবৃত Valley হিসেবে
Water Valley তার মহিমা প্রকাশে বিন্দুমাত্র ত্রুটি করেনি । WVIST ও
Water Valley দিন দিন এগিয়ে যাবে পর্যবেক্ষন টাওয়ার নির্মান শেষে হয়তো বিজ্ঞানের কল্যানে উদঘাটিত হবে Water Valley এর বিষ্ময়


No comments:
Post a Comment